বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কুমিল্লা সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ৬ জেলার চার হাজার শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ কুমিল্লা তিতাসে শীতার্তদের পাশে দাঁড়ালেন সামাজিক সংগঠন ফ্রেন্ডস ক্লাব দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখলেন তারেক রহমান আনন্দ উল্লাসে মুখরিত দেশ কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলায় রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় ২ সাংবাদিক গ্রেফতার। ক্ষমতা নিতে চায় নাই , সাধারণ মানুষের হৃদয়েই থাকতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু:… ড. কামাল কুমিল্লায় চিকিৎসকদের দক্ষতা অর্জনে ১ দিনের সিপিআর প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠান যে আসনে মনোনয়ন ফরম নিয়ে ও প্রচারণা নেই এনসিপির আহবায়ক নাহিদের, ঝড়ে যাওয়ার দারপ্রান্তে গ্রামীণ ব্যাংকের ড, ইউনুসের সাথে যৌন নোবেল অংশীদারত্বের তাসলিমা এখন কোথায় কুমিল্লা -৬ আসনে মনোনয়ন মনিরুল হক চৌধুরী , আনন্দে মনিরুল হক সাক্কু কুষ্টিয়া জেলার, ভেড়ামারায় জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

কুমিল্লা তনু হত্যার ৯ বছর: দপ্তর থেকে দপ্তরে তদন্ত:মামলার তদন্ত

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, ২০২৫
  • ১৭৩ Time View

তনু হত্যার ৯ বছর: দপ্তর থেকে দপ্তরে তদন্ত:মামলার তদন্ত

প্রধান উপদেস্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করতে চান তনুর বাবা- মা
* তদন্তেই আটকে আছে মামলা,
* ৯ বছরে ৬ বার মামলা তদন্ত কর্মকর্তা বদল,
* মামলার সব তদন্ত কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন তনুর মা’ আনোয়ারা বেগম,
* ড. ইউনুসের কাছে বিচার চাইলেন মামলার বাদী,
* তদন্তে কেন এত বছর লাগছে প্রশ্ন তনুর মায়ের

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী এবং নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার পর দেশজুড়ে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিবাদ-আলোচনা হয়েছিল। সেই ঘটনার নয় বছর পূর্ণ হলো আজ ২০ মার্চ। অথচ আজও উদ্ঘাটন হয়নি হত্যার রহস্য, শনাক্ত হয়নি খুনি।
এমন আলোচিত একটি ঘটনার তদন্ত-মামলা-বিচারের এই হাল হওয়ায় হতাশ তনুর পরিবার। তাঁর হত্যার সঠিক বিচার পেতে প্রধান উপদেস্টার সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ পেতে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করতে চান পরিবারের সদস্যরা।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় আলোচিত এ হত্যাকাÐের ঘটনা ঘটে। তনুর স্বজনেরা জানান, চার তদন্ত সংস্থার দপ্তর বদল হয়ে মামলাটি এখন বর্তমানে তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদর দপ্তর। কিন্তু এখন পর্যন্ত তদন্তে কোনো আশার আলো দেখাতে পারেনি বা কোনো হত্যাকারীকে শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বুধবার সকালে এ বিষয়ে পিবিআই’র প্রধান কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘মামলাটি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। আমাদের তদন্ত কার্যক্রম চলমান। আসামি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’
চারটি তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন আর পাঁচবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন ছাড়া কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। শুরুতে থানা-পুলিশ, পরে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি)’র পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই হেডকোয়ার্টার্স। দীর্ঘ সময় মামলাটি তদন্ত করেও কোনো কুলকিনারা করতে পারেনি কেউ।
নিহত তনুর মা আনোয়ারা বেগম জানান, ‘পিবিআইয়ের তদন্তকারী দলের সদস্যরা সর্বশেষ ২০২০ সালে ঘটনাস্থল একবার পরিদর্শন করতে এসে কথা বলেছিলেন তনুর বাবা আর ভাইয়ের সঙ্গে। তার পর থেকে পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করে না তদন্তকারী সংস্থার কেউ; যার কারণে মামলার তদন্ত সম্পর্কে কিছুই জানেন না তনুর পরিবার। দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পেয়ে মেয়ের হত্যাকাÐের বিচারের ভার আল্লাহর কাছে ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানালেন আনোয়ারা খাতুন।’
তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ‘মেয়ে হত্যার নয় বছর হলো; কিন্তু এ মামলার কোনো ক‚লকিনারা হয়নি। বারবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদল ছাড়া আর কোনো অগ্রগতি আমাদের চোখে পড়ছে না। পিবিআই তদন্তভার পাওয়ার পর ভেবেছিলাম হত্যার বিচার পাব। কিন্তু এখনো খুনিরাই শনাক্ত হলো না। তারা মামলাটি ফেলে রেখেছে, কোনো কাজ করছে না।’
এই বাবার আক্ষেপ ও চাওয়া, ‘আমার মেয়ে হত্যার ঘটনায় আমরা বারবার বলেছি সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রীকে ধরা হোক, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক কিন্তু এই ১০ বছরে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। উল্টো আমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে হয়রানী করা হেেচ্ছ। আমি অসহায় এবং অর্থসম্পদ নেই বলে আমার মামলার এ দুরবস্থা। মেয়ের সঠিক বিচার চাইতে আমি মাননীয় প্রধান উপদেস্টার সঙ্গে দেখা করতে চাই এবং আমার মেয়ের হত্যার সঠিক বিচার পেতে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা করতে চাই। দেশবাসীর কাছে বিচার চাই।’
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সাবেক সভাপতি তনুর সহকর্মী মো. আল আমিন বলেন, তদন্তের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট মহলের সদিচ্ছার অভাব না হলে এত দিনে বের হয়ে আসত হত্যাকারীরা, আলোর মুখ দেখত তনু হত্যা মামলা।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কলেজছাত্রী এবং নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর লাশ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। সেনানিবাসের ভেতরে একটি স্টাফ কোয়ার্টারে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তনু। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজনের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 dailysomoyarbangladesh.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin