চৌদ্দগ্রামে মাদ্রাসা ছাত্রীর ধর্ষণের অভিযোগ আড়াল করতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা!
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথ দীঘি ইউনিয়নের বেতিয়ারা গ্রামের স্থানীয় ও ফেনী শহরের আলিম উদ্দিন রোডের এলাকার ১৪ বছর বয়সী মাদ্রাসা ছাত্রীর সঙ্গে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আবুল হোসেন (আবু) (৬০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী মাদ্রাসা ছাত্রীর সাথে ফেসবুক ম্যাসেন্জারে জানা যায়, অভিযুক্ত আবুল হোসেন চার সন্তানের জনক।
ভুক্তভোগী মাদ্রাসা ছাত্রী আমাদের প্রতিনিধির নিকট অভিযোগ করে বলেন, ধর্ষণের ঘটনার পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি গোপন রাখতে অভিযুক্ত ব্যক্তি গর্ভপাত করাতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরেন। এবং সাংবাদিকের সহায়তা কামনা করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে অভিযুক্ত আবুল হোসেন নিজেই ভুক্তভোগীকে ফেনী শহরের হায়দার ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থানের পর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে গর্ভপাত করানো হয় বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় ক্লিনিকটির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি। অভিযোগ বিষয়ে ম্যাসেন্জারে আলোচনার একপর্যায়ে মাদ্রাসা ছাত্রী অভিযুক্ত আবুল হোসেন আবুর ছবি পাঠিয়ে নিশ্চিত করেন।
ফেনী জেলা অবস্থিত এই হায়দার ক্লিনিক নামক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অনেক অভিযোগ রয়েছে। হায়দার ক্লিনিক কোন রকম নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এসব অবৈধ কার্যকলাপ করে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী আরও জানান, অভিযুক্ত আবুল হোসেনের সহায়তায় লিটমাস টেস্টে গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ঘটনাটি জানাজানি না হওয়ার ভয়ে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এছাড়া এক বান্ধবীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে পরিবারকে বিভ্রান্ত করে ফেনীর মহিপাল এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে রাত কাটানোর ব্যবস্থাও করা হয়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে তারা আলিম উদ্দিন রোডের নাবিলা মঞ্জিলে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষার্থী। সে সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে তার সঙ্গে অশালীন আচরণ শুরু করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পরিবার বাসা পরিবর্তন করে।
আমাদের প্রতিনিধি মাদ্রাসা ছাত্রীর কাছে হায়দার ক্লিনিকের ডাক্তারের ব্যবস্হাপত্র চাইলে চিকিৎসা শেষে আবুল হোসেন আবু নিজের কাছে রেখে দেন বলে জানান নিরাপত্তা জনিত কারণে মাদ্রাসা ছাত্রীর কাছে দেননি বলেও এমন ধারণা করা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আবুল হোসেন দীর্ঘদিন সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন এবং সেখানে পরিত্যক্ত লোহার ব্যবসার করতেন বলেও জানা যায়।
ধর্ষণের তদন্তের বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি গত ১০, ১৩ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত একাধিকবার ফোন করে গালিগালাজ, গ্রামের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসবে, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অশালীন কথা ও মামলা করার হুমকি দেন বলেও ফেসবুক ম্যাসেন্জারে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সহপাঠী মহল এলাকাবাসী থেকে জানা যায় মামলার বাদী আবুল হোসেন আবু সাংবাদিক কে আওয়ামী ট্যাগ দিয়ে মামলার সরলীকরণ করার চেষ্টা করছেন।
মামলার নথি দেখে আরও জানা যায় নং ১১৩৫/২৫ ধারা ৩২৩/৩৮৫/৪২৭/৫০০/৫০৬ এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ৩২৩ ভয়ভীতি, ৩৮৫ চাঁদাবাজি, ৪২৭ ভাংচুর ক্ষতিসাধন, ৫০০ মানহানি, ৫০৬ অপরাধ মূলক ভয়ভীতি বিবাদী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এইসব অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু বাদী বিবাদীর মধ্যে কখনোই ফোনে এবং সরাসরি এ বিষয়ে কোন কথাই হয়নি। এ বিষয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহল সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে মামলাটি বর্তমানে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা মোস্তাকিম কবির তদন্তের স্বার্থে বাদী ও বিবাদী উভয়কেই উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল হোসেন (আবু) আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি কোনোভাবেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।”
এ বিষয়ে আবুল কালাম মজুমদার বলেন, পেশাদার সাংবাদিকের দায়িত্ব যে কোন অভিযোগ আসলে তথ্য প্রমাণ বের করা। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ বা ৫টি ধারা ব্যবহার করা হয়েছে কোন একটা অপরাধের সাথেও আমি জড়িত নই।