চৌদ্দগ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব প্রতিবন্ধী দেলোয়ারের পরিবার সরকারের সহায়তা চেয়ে আকুতি
স্টাফ রিপোর্টার রুবি আক্তার
গত ১৮ মার্চ ভোর রাতে সেহরির সময় কুমিল্লাজেলা চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় কৃষ্ণপুর গ্রামেন প্রতিবন্ধী দেলোয়ার বসতভিটায় অগ্নি সংযোগ হয়ে মূহুর্তের মধ্যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় চোখের পলকে দেলোয়ার বেঁচে থাকার স্বপ্ন পুড়ে চাই খোলা আকাশের নীচে বসবাস এক অসহায় প্রতিবন্ধী পরিবার। গত রবিবার সেহরির সময় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে মোঃ দেলোয়ার হোসেনের মাথা গোঁজার একমাত্র আশ্রয়স্থল। বর্তমানে পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ভোরে যখন সবাই সেহরির প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ করেই দেলোয়ার হোসেনের ঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় এবং তিল তিল করে জমানো সামান্য অর্থ—সবকিছুই চোখের পলকে ভস্মীভূত হয়ে যায়। আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তবে ভাগ্যক্রমে ঘর থেকে বের হতে পারায় প্রাণে বেঁচে যান দেলোয়ার হোসেনের বড় মেয়ে।
সব হারিয়ে দিশেহারা পরিবার: শারীরিক প্রতিবন্ধী দেলোয়ার হোসেনের উপার্জনের কোনো স্থায়ী পথ নেই। পৈত্রিক ভিটার এই ঘরটিই ছিল তার পরিবারের শেষ সম্বল। আগুনে সবকিছু হারিয়ে এখন পরনের কাপড় ছাড়া তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। খোলা আকাশের নিচে আশ্রয়হীন অবস্থায় খাবার ও বাসস্থানের অভাবে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে এই অসহায় পরিবারটি। স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ততক্ষণে দেলোয়ারের সাজানো সংসার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
মানবিক সাহায্যের আবেদন: চৌদ্দগ্রামের সচেতন মহল এবং প্রতিবেশীরা এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিত্তবান ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। এখনই কোনো মানবিক সহায়তা না পেলে পরিবারটির স্বাভাবিক জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়বে।