‘জুলাই ২৪’ হত্যাকাণ্ড:মেটিকোলাস ডিজাইনে স্নাইপার ব্যবহার
মো: আজগর হোসেন শাহীন:
অন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন–এর একটি বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ভারতবিরোধী ছিল; “ব্যবহারকারী ভারতীয় হলে সরকার অবশ্যই তদন্ত করত। কেন করল না? তারা কি তবে পাকিস্তানি?”
এই মন্তব্য ঘিরে ‘২৪-এর জুলাই হত্যাকাণ্ড’-এ স্নাইপার ব্যবহারের অভিযোগ আবার সামনে এসেছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, যদি লক্ষ্যভেদী গুলি ছোড়া হয়ে থাকে, তবে সেটি কারা এবং কোন নির্দেশনায় করেছে?
লক্ষ্যভেদী গুলির অভিযোগ
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও কিছু স্বাধীন পর্যবেক্ষকের দাবি, ওই দিনের সহিংসতায় কিছু গুলি সরাসরি ভিড়ের কেন্দ্র নয়, বরং নির্দিষ্ট টার্গেটের দিকে ছোড়া হয়েছিল। গুলির কোণ, আঘাতের ধরন এবং দূরত্ব নিয়ে তারা সন্দেহ প্রকাশ করছেন—এটি কি প্রশিক্ষিত স্নাইপারের কাজ ছিল?
স্নাইপার অস্ত্র সাধারণত নির্ভুল লক্ষ্যভেদের জন্য ব্যবহৃত হয়। যদি এমন অস্ত্র ব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে ঘটনাটি কেবল জনতা নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের দিকে মোড় নিতে পারে।
তদন্ত নিয়ে বিতর্ক
সরকারি অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করা হয়েছিল। তবে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে এবং কোথা থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে—এসব প্রশ্নে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, যদি সত্যিই উঁচু স্থান থেকে লক্ষ্যভেদী গুলি চালানো হয়ে থাকে, তাহলে এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের গুরুতর লঙ্ঘন হতে পারে। তারা বিচার বিভাগীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন, ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বার্তা না নিরাপত্তা ব্যর্থতা?
ড. সাখাওয়াত হোসেনের মন্তব্যে আরেকটি ইঙ্গিত রয়েছে—তদন্তের আগ্রহ বা অনাগ্রহ কি রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রভাবিত হয়েছে? সমালোচকদের মতে, যদি জাতীয়তা বা ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া বদলায়, তবে তা আইনের সমতার নীতির পরিপন্থী।
সামনে কী
‘জুলাই ২৪’ হত্যাকাণ্ডে স্নাইপার ব্যবহারের অভিযোগ এখন শুধু একটি কারিগরি প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি স্পষ্ট—রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, প্রমাণভিত্তিক ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য সামনে আসুক।